fbpx
শিবগঞ্জ ডট কম

ঈদে ঘুরে আসুন সাজেক ভ্যালি

পুনশ্চ ইহা কোন ট্যুর প্ল্যান না! সাজেক ট্যুর প্লান বহু পাবেন গ্রুপে! এখন বা ঈদে যারা যাবেন তাদের শুধু বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার জন্য লেখা! বিস্তারিত লেখার ফলে বেশ বড় হয়ে গেছে। যাইহোক ১৭ তারিখ এক্সাম শেষ ক্যারা ঢুকছে ট্যুর দিব! চারপাশের সবাই সাজেক দেইখা ফালাইল আমি খালি যাই নাই! এ কেমন ট্রাভেলার? কাজেই ডেসটিনেশন ফিক্স মিশন সাজেক অন! নেক্সট সেমিস্টার শুরুর প্যারা ছিল তাই দুই দিন এক রাতের ট্যুর যা সাজেক এবং খাগড়াছড়ি দেখার জন্য এনাফ!
ফার্স্টে আগ্রহী ছিল ১০ জন খুশি ছিলাম কারন ইতিমধ্যে জানি গ্রুপে গেলে সুবিধা বাট নানা ঘটনা, দুর্ঘটনার কারণে শেষমেশ এসে দাড়াল ৪ জনে!

বাধা-বিপত্তিতে ডরে না ট্রাভেলার! ডিসিশন নিলাম ট্যুর দিবই সব প্ল্যান ঠিক থাকবে খালি চান্দের গাড়ি শেয়ার করা লাগবে এই যা! টিকেট আগেই কাটছিলাম! অন্যগুলাতে একসাথে সিট না পেয়ে কনফিউশন নিয়ে ইকোনো তে টিকেট কাটলাম রাত ১১ টার ফকিরাপুল টু খাগড়াছড়ি ৫২০ টাকা! আমি ইকোনোই রিকমন্ড করব একটা গ্রুপের জটিলতায় বাস ছাড়তে ১২ টা বাজলেও আমরাই সবার প্রথম খাগড়াছড়ি শাপলাচত্বর নামি! আর ড্রাইভিং খুব ভাল! তো খাগড়াছড়িতে নেমে আগে সকালের নাস্তা করা দরকার! সবাই মনটানার কথা বলে! আমি সাজেস্ট করব মনটানার পাশের (নাম খুব সম্ভবত মক্কা) রেস্টুরেন্ট এ ৬০ টাকা দিয়ে চিকেন খিচুড়ি খেতে! কারন হাল্কা নাস্তা ও খিচুড়ির খরচ সামান্য পার্থক্য আর খিচুড়িটা মজা! নেক্সট আড়াইঘন্টা জার্নি ও পাহাড়ের ওয়েদারে বেশী খিদা পায় (নিজস্ব অবজার্ভেশন) বলে খিচুড়ি খাওয়াই বেটার আমার মতে! এরপর আসেন জীপ! এখন এই জিনিসটা নিয়ে অনেক প্যারা খাওয়া লাগে! প্রথমেই বলি ১০-১২ জনের গ্রুপে সাজেক যাওয়া উত্তম! কম হলেও ভয় পেয়ে দমে যাওয়ার কিছু নাই। খাগড়াছড়ি নেমে অনেক গ্রুপ পাবেন এড হয়ে যাবেন! আমরা অন্য একটি ৪ জনের গ্রুপ্রের সাথে এড হয়ে মোট ৮ জন গিয়েছিলাম! অন্য গ্রুপের সাথে এড হতে চাইলে রাত ১১ টার গাড়িতে যাবেন অবশ্যই যাতে খাগড়াছড়ি আগে পৌছাতে পারেন গ্রুপ গুলো আস্তে আস্তে বুক হয়ে যায়! যাইহোক চান্দের গাড়ির অবস্থা আর আগের মত নাই! রিসেন্ট যারা গিয়েছেন জানেন যে জীপ সমিতি সিন্ডিকেট একটা ভাড়া ফিক্স করে দিছে এর চেয়ে কম হয় না! তো আমাদের কাছে প্রথমে চাইল ১১ হাজারের বেশী একরাত থাকবে এবং খাগড়াছড়ির স্পট গুলো ঘুরাবে যা আমাদের বাজেটের অনেক বাইরে! কিন্তু কিছু কিছু জীপ মালিক এই সমিতিতে নাই তারা নিজেদের ইচ্ছা মত চলে আপনার কাজ হবে তাদের খুজে বের করা! আমাদের গ্রুপের একজনে আগে সাজেক এসেছিল এবং তার একজন পরিচিত ড্রাইভার ছিল তাকে ফোন দিয়ে পেয়ে গেলাম সব মিলিয়ে ঠিক করলাম ৮৪০০ খাগড়াছড়ির স্পট ঘুরানো সহ ৮১০০ আর ৩০০ খাবার! (উনার নাম্বার আমার কাছে নাই পেলে আপডেট করে দিব) দীঘিনালা ও বাঘাইহাট থেকেও জীপ পাবেন সেখানেও নাকি সিন্ডিকেট! কাজেই খাগড়াছড়ি থেকে নেওয়াই বেটার একান্তই জীপ না পেলে সিএনজি ও বাইক আছে। সিএনজি ৩/৪ হাজারে পাওয়া যায়। বাট আমার কাছে এই দুটোকে পাহাড়ি রাস্তায় রিস্কি মনে হইছে। এবং আমার মতে চান্দের গাড়ির ছাদে না উঠলে সাজেক যাওয়া বৃথা! এই অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না! আর হ্যা অবশ্যই রবি সিম নিয়ে যাবেন কেননা টেলিটক এর নেটওয়ার্ক আমি পাই নাই যদিও রবি সিম ছিল! আর সাজেকে পানির একটু সমস্যা। সমস্যা বলতে নিচের ঝর্ণা থেকে আনাতে হয় উপরে একারণে খাবার পানি আপনাকে কিনে নিয়ে যেতে হবে (সাজেকেও মিনারেল ওয়াটার পাওয়া যায় দাম বেশী) আমরা ৪ জনের জন্য ১৫ লিটার পানি কিনেছিলাম খাগড়াছড়ি থেকে ২১০ টাকা দিয়ে ১০ লিটার লেগেছে! প্রস্তুতি শেষ এবার সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু। সাজেকে যেতে হয় আর্মি এস্কর্ট এর সাথে সকাল ১০.৩০ আর বিকেল ৩ টায় শুধু এই দুই সময়ই এস্কর্ট পাবেন! যাত্রাপথটা খুবই রোমাঞ্চকর পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা কখনো খাড়া হয়ে উঠে গেছে সেই সুদুরে আবার কখনো ঢালু হয়ে নেমে গেছে! চারপাশে ছবির মত সুন্দর দৃশ্য! এ যেন দম আটকান সৌন্দর্যের এক আধার! অন্তরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগতে বাধ্য! পুরো সময়টা যেন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম! চান্দের গাড়ির ছাদে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন বিশেষ করে বাকগুলো ঘোরার সময়! আর কখনো কখনো আর্মিরা গাড়ি থামিয়ে ছাদ থেকে নামতে বলবে কথা না বাড়িয়ে নেমে যাবেন! চিন্তা নেই একটু সামনে গিয়েই উঠে পড়বেন আবার। প্রায় আড়াইঘন্টায় সাজেকে পৌছালাম! রুইলুই এবং কংলাক এই দুটো নিয়েই সাজেক! নেমেই কটেজ ঠিক করে ফেলবেন। আমরা ছিলাম বিখ্যাত মেঘ মাচাং এ। তবে এটা নিয়ে দুটো কথা বলা প্রয়োজন! এটা মুলত ফেমাস এর বারান্দার ভিউটার জন্য। আমরা একটা কটেজ নিয়েছিলাম যেগুলোর ভাড়া একরাত ৩০০০ (কম বেশি হয় সিজন, চাহিদা ভেদে ৬ জন থাকতে পারে) তো নেওয়ার পর ভেতরে গিয়ে বেড তেমন পরিস্কার না! আর সবচেয়ে বড় কথা নেওয়ার পর থেকে চেক আউট করা পর্যন্ত তাদের কাউকেই আমরা পাই নাই! একবার এসে কোন সমস্যা আছে কি না জিজ্ঞেস করা দূরে থাক! ইভেন আমরা সকালে চেক আউটের সময় তাদের খুজে বের করে গিয়ে পে করেছি! :/ সব মিলিয়ে আমার কাছে ওভার হাইপড লেগেছে এবং সেইম ভিউ এর কটেজ আরও কমে দেখেছি পরে! এম্নিতে মেঘ মাচাং ভালই বিশেষ করে বারান্দা থেকে ভিউ টা!

সাজেকে বিদ্যুৎ নাই! কটেজে রাতে দুইঘন্টা জেনারেটর দেয়! কাজেই পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাবেন অবশ্যই। যদি মোবাইল নামক বস্তুটা থেকে ছুটি নিতে চান কোন ব্যাংকেরই প্রয়োজন নাই! কটেজে উঠে ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ সেরে নিন ওখানে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে অবশ্যই আগে অর্ডার করতে হবে। মেন্যু দুইটাই বেশ পপুলার
১. ভাত, ডিম, সবজি, আলুভর্তা, ডাল ১০০
২.ভাত, মুরগী, সবজি, ডাল ২০০+
আর হ্যা সাজেকের খাদ্য সংকটের কোন প্রভাব টুরিস্ট দের উপর মানে রুইলুই এ খেয়াল করি নাই সব স্বাভাবিক ই আছে। খেয়ে বেরিয়ে পড়ুন কংলাক পাড়ার উদ্দেশ্যে। রুইলুই থেকে অপেক্ষাকৃত উচু কংলাক। চান্দের গাড়ির ড্রাইভারই আপনাকে কংলাকের নিচ পর্যন্ত নিয়ে যাবে বাকিটা পায়ে হেটে চুড়ায় উঠতে হবে! কংলাক খুব বেশি বড় না। উঠেই ডানদিকের শেষ মাথায় একটা বাশের মাচা আছে বসে নিচের রুইলুই এবং সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। বামদিকের মাথায়ও সেইম ভিউ ওখানে পাহাড়ি পিচ্চিদের একটা দোকান আছে ২.৫০ টাকা পিস পাহাড়ি কলা পাওয়া যায় খুবই মজা কলাটা। কংলাক দেখা হলে ফিরে আসুন হেলিপ্যাডে! সুর্যাস্ত দেখতে পাবেন! বাকি সময়টুকু রুইলুই এ ঘুরতে পারেন। রাতে খেয়ে হেলিপ্যাডে চলে যেতে পারেন রাতের হেলিপ্যাডের অন্যরকম এক সৌন্দর্য এবং নির্জনতা উপভোগ করতে পারবেন। এবার একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন যদি সুর্যোদয় দেখতে চান। মেঘের আড়াল থেকে ভোরের সূর্যের উকি দেওয়ার দৃশ্যটার সৌন্দর্য লিখে বোঝানো যাবে না। নাস্তা করে কটেজে চেক আউট করে ১০ টার এস্কর্টে ফিরে আসুন খাগড়াছড়ি। ফেরার পথে হাজাছড়া ঝর্ণা (!!!) দেখতে পারেন তবে খুব বেশি পানি আশা করলে হতাশ হবেন। হাজাছড়া না গিয়ে এই টাইমটা অন্য কাজে লাগাতে পারেন পরে আসছি সেটায়। এবার খাগড়াছড়ি এসে লাঞ্চ করলাম বিখ্যাত মন্টানা রেস্টুরেন্ট এ। এদের রান্না এবং খাবারের মান দুটোই ভাল বিশেষ করে তাদের নানা পদের ভর্তা টেস্ট করতে ভুলবেন না। প্রাইসও রেজনেবল। এবার খাগড়াছড়ি শহর থেকে চলে যান আলুটিলা গুলা। অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে! এরপর চলে যান রিসাং ঝর্না। যার আরেক নাম প্যান্ট খেকো ঝর্ণা। সারা দিনের ক্লান্তি সব ধুয়ে যাবে ঝর্ণার অবিরাম ধারায়। চাইলে স্লাইডও দিতে পারেন যদি সাথে অতিরিক্ত প্যান্ট থাকে
এবার আসি যদি আপনি হাজাছড়া না যান এই সময়টা যাবেন তাড়েং আর্মি বেস ক্যাম্পে। ড্রাইভারকে বললেই হবে। এখানে একটা ছোট হেলিপ্যাড আছে যেখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহর দেখা যায় সারাদিনের ঘুরাঘুরির পর যখন ক্লান্তিতে গিয়ে ওখানে দাড়াবেন অন্যরকম এক প্রশান্তি কাজ করে! এবার যান্ত্রিক ঢাকায় ফেরার পালা! আসারদিন নেমেই ঢাকা ফেরার টিকেট কনফার্ম করবেন নাইলে যাওয়ার সময় ভাল সিট পাওয়া যাবে না।
খরচ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আইডিয়া পেয়ে গিয়েছেন তাই ব্রেকডাউন আর আলাদা করে মেনশন করলাম না!
গ্রুপে গেলে পারহেড ২৫০০-৩০০০ এ হয়ে যাবে আমরা একটু রিল্যাক্স ট্যুর দিছি তাই আমাদের এরাউন্ড ৩৫০০ পড়ছে। আর সব সিজনেই সাজেক চিরযৌবন কাজেই কোন স্পেসিফিক সিজন নাই দেখার জন্য! আর উইকএন্ড এড়ানোর ট্রাই করবেন অন্য সময় গুলোতে ডিমান্ড কম থাকায় প্রাইসও কমে আসবে!উইকেন্ডে সবকিছুর ডিমান্ড বেশি তাই প্রাইস একটু বেশী থাকে।
*ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি সুন্দর যাতায়াত ব্যাবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য
যাইহোক এই ছিল দুই দিন এক রাতে সাজেক অভিযান। আরও কিছু জানার ইচ্ছে থাকলে কমেন্টবাক্স আছেই।

ধন্যবাদ! হ্যাপি ট্রাভেলিং

লিখেছেনঃ সিয়াম দুর্জয় কাশফিক‎

Desk News

মন্তব্য দিন

লিখতে চান?

আপনি কি লিখালিখি করতে পছন্দ করেন? আপনি যদি শিবগঞ্জ বিষয়ে যে কোন কিছু লিখতে চান তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

Advertisement

Social Widget

Collaboratively harness market-driven processes whereas resource-leveling internal or "organic" sources.

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed