fbpx
শিবগঞ্জ ডট কম

কয়েক ঘণ্টায় ঘুরে আসুন নরসিংদীর লটকন বাগান

আমি গত বছর প্রথম এ এলাকায় পা রেখেছিলাম। তখন ছিল লটকনের ভরা মৌসুম। দেখেছি গাছে গাছে থোকায় থোকায় লটকন ঝুলছে, লটকন শুধু গাছের ডালেই নয় এর শরীরজুড়ে। এমনকি কোথাও কোথাও দেখেছি গাছের গোড়ার দিকে ঝুলে থাকা লটকন মাটি ছুঁয়ে আছে। রাজশাহীর আম বাগানের মতোই এখানকার লটকন বাগান। শুধু লটকন গাছেই পূর্ণ পুরো বাগান।

লটকনের জন্য বিখ্যাত নরসিংদীর শিবপুর ও রায়পুরা উপজেলা। এর আশপাশের এলাকায়ও এখন ফলটির বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে।

আমি গত বছর প্রথম এ এলাকায় পা রেখেছিলাম। তখন ছিল লটকনের ভরা মৌসুম। দেখেছি গাছে গাছে থোকায় থোকায় লটকন ঝুলছে, লটকন শুধু গাছের ডালেই নয় এর শরীরজুড়ে। এমনকি কোথাও কোথাও দেখেছি গাছের গোড়ার দিকে ঝুলে থাকা লটকন মাটি ছুঁয়ে আছে। রাজশাহীর আম বাগানের মতোই এখানকার লটকন বাগান। শুধু লটকন গাছেই পূর্ণ পুরো বাগান।

গতবার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ছোটাবন্দ গ্রামে পা দিয়েই পেয়ে যাই লটকন বাগান। তো আর দেরি কেন? বাগানে ঢুকে নিজ হাতে লটকন তুলে খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ ছাড়িনি! আমার চোখ চক চক করা চেহারা দেখেই হয়তো বাগান মালিক ঠাওড়ে নিয়েছিলেন আমি কোন মতলব আঁটছি। বাগান মালিক হাসান ভূইয়া হাসিমুখে এগিয়ে এলেন, বললেন, ‘যে গাছ থেকে মন চায় ছিঁড়ে খেতে পারেন, যত খুশি খেতে পারেন।’ তিনি শুধু বলেই শেষ করলেন না, সঙ্গে দেখিয়েও দিলেন কোন গাছের লটকন মিষ্টি, আর কোন গাছেরটি টক। তার কথা শুনে এক মুহূর্ত দেরি করিনি। বাগানে ঢুকে লটকন ছিঁড়ে খোসা ফেলে মুখে দিলাম। মনে হলো মিষ্টি রসে মুহূর্তে মুখ ভরে গেল। হাসান ভূইয়া পাশ থেকে বললেন, ‘শিবপুর, রায়পুরা উপজেলা ও এর আশপাশের এলাকায় লটকনের চাষ হয়। বেশি হয় শিবপুরেই।’

তবে এখানকার যোশর, আগরপুর, মাকাল্লা, ভিটিখৈনকুট, দক্ষিণ কামালপুর, লালখারটেক, কামারটেক, চৈতন্য, চান্দারটেক, শরীফপুর, কুলুরটেক, টঙ্গিরটেক, পুরানা আটশিয়া, আমরাতলী, কাজিয়ারা, লেটাব, মাছিমনগর, মালিয়ারা, নৌকাঘাটা, নন্দিরটেক, মুরগীবের, দেবালেরটেক, পাহাড়ফুলদী, শৈকারচর, শ্রীরামপুর, সৃষ্টিগড়, ভঙ্গারটেক, জাঙ্খারটেকসহ আশপাশের সব গ্রামেই লটকনের বাগান আছে। আর দেশের অন্য এলাকায় লটকন হলেও স্বাদের জন্য এখানকার লটকনের সুনাম সর্বজনবিদিত। এছাড়া এ অঞ্চলেই বাণিজ্যিকভাবে লটকনের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। আর এ ফল ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। এখানকার লটকন বিক্রির হাট বসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল বাজার বাসস্ট্যান্ড, শিবপুরের কামারটেক বাজার বাসস্ট্যান্ড, চৈতন্য বাজার ও গাবতলী বাজারে। চাষীরা খুব সকালে লটকন ছিঁড়ে ছোট ঝুড়িতে ভরে বাজারে নিয়ে আসেন। সকালেই বাজার জমে। পাইকার আসেন ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে। অনেক পাইকার বাগান থেকেও কিনে নেন। সেবার এ রকম কজন পাইকারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এদের একজন নাজমুল হক, তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলাম, ‘মূলত স্বাদের জন্য এখানকার লটকনের চাহিদা বেশি। আর বাণিজ্যিকভাবেও এ অঞ্চলে যেহেতু লটকনের চাষ বেশি হয়, তাই লটকনের মৌসুমে খুব ব্যস্ত সময় কাটে তাদের।’

লটকন বাগানের আরেক মালিক শফিকুল ইসলামের কাছে জেনেছিলাম, এই এলাকায় ও এর আশপাশে লটকনের আবাদ ক্রমেই বাড়ছে। কারণ লটকনের চারা সারা বছরই লাগানো যায়, তবে এখানকার চাষীরা সাধারণত বর্ষা মৌসুমে চারা লাগান। লটকনের চারাও আলাদাভাবে বিক্রি হয় এখানে। মজার ব্যাপার হলো, উত্পাদিত লটকনের একটিও নষ্ট করা হয় না। গাছ থেকে পড়ে বা পাখি খেয়ে যে লটকন ফেলে দেয়, সেটা থেকেই চারা বানানো হয়। সেই চারা পরে বাগানে চলে যায়। একটি চারা লাগানোর চার বছর পর থেকে গাছে লটকন ধরতে শুরু করে। তবে কেউ চাইলে লটকনের চারা বাজার থেকেও কিনতে পারবে। লটকন চারা সহজেই বড় হয়, খুব একটা যত্ন করতে হয় না। মৌসুম শেষে গাছের গোড়ায় কিছু মাটি বা গোবর দিলেই যথেষ্ট।

বাগানের মালিক সিদ্দিক মিয়া জানান, বড় আকারের একটি গাছ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত লটকন পাওয়া সম্ভব। আর একটি গাছ ৫০-৬০ বছর বাঁচে। তবে লটকন গাছের কাঠ দিয়ে ফার্নিচার হয় না, কেবল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। লটকন বিক্রি হয় বড় বা ছোট আকারভেদে। মৌসুমে বড় আকারের লটকন প্রতি মণ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ছোট আকারেরগুলো আরো কম দামে। যা-ই হোক, আসার সময় লটকন বাগানের মালিকদের পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ পেলাম কয়েক গোছা লটকন।

কীভাবে যাবেন
ঢাকার সায়েদাবাদ, বনানী, মহাখালী বা উত্তরা থেকে যেকোনো নরসিংদীর বাসে উঠে পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ড নামবেন। সেখান থেকে সিএনজি ভাড়া করে চলে যাবেন মরজাল। সিএনজির চালককে বললেই হবে যে লটকন বাগান দেখতে যাবেন, তিনিই আপনাকে কামারটেকের রাস্তা দিয়ে সৃষ্টিগড় পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। এই ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার সরু রাস্তার পুরোটাজুড়েই লটকন বাগান। লটকন জুলাই মাসের পর আর পাওয়া যাবে না। ফেরার সময় ভেলনগর বা পাঁচদোনা হয়ে আবার চলে আসতে পারেন। ঢাকা থেকে নরসিংদীর পাঁচদোনা পর্যন্ত বাসভাড়া ১০০ টাকা।

কিছু পরামর্শ:
অটো/বাস/রিকশা যেটাতেই উঠেন আগে ভাড়া ঠিক করে উঠবেন। উঠার পর পরে বেশি ভাড়া আদায় করতে পারে। আমার সাথেই এমন হয়েছে। আর যেখানেই যান যাওয়ার আগে আশেপাশের দোকান থেকে যেখানে যাবেন সেখানে যাওয়ার ভাড়া জেনে যাবেন। এমনিতে ওখানকার মানুষজন ভালো। কিছু জিজ্ঞাসা করলে সাহায্য করে। লটকন আষাড়,শ্রাবণ আর ভাদ্র মাসে পাওয়া যায়। ভাদ্র মাসে সবসময় থাকে না।

সূত্র- বণিক বার্তা
লেখক: গাজী মুনছুর আজিজ
ছবি- হিমেল হাসান ও ইন্টারনেট

Desk News

মন্তব্য দিন

লিখতে চান?

আপনি কি লিখালিখি করতে পছন্দ করেন? আপনি যদি শিবগঞ্জ বিষয়ে যে কোন কিছু লিখতে চান তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

Advertisement

Social Widget

Collaboratively harness market-driven processes whereas resource-leveling internal or "organic" sources.

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed